ক্রেডিট কার্ড কি? ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা। বিস্তারিত জানুন

ক্রেডিট কার্ড কি? একটি ক্রেডিট কার্ডে কি কি সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো। এসব কিছুর বিবস্তারিত জানতে পারবেন।

বিশ্বব্যাপি লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ক্রেডিট কার্ড সুপরিচিত। বর্তমানে বিশ্বব্যাপি ক্রেডিট কার্ডের ইউজার সংখ্যা 2.8+ বিলিয়নের ও বেশি।

প্রতিনিয়তই এর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষই ক্রেডিট কার্ড এর সম্পর্কে অবগত নয়।

যার কারনে তারা ক্রেডিট কার্ডের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। ক্রেডিট কার্ড কি? আপনি ক্রেডিট কার্ড নিতে পারবেন কিনা? আজকে থাকছে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

ক্রেডিট কার্ড কি

ক্রেডিট কার্ড প্রোভাইডাররা কার্ড হোল্ডারদের বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। এই বিষয়ে জানা থাকলে একজন কার্ড হোল্ডার সহজেই ক্রেডিট কার্ডের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে। আবার কিছু অসুবিধাও আছে সেটাও আলোচনা করব। শুরুতেই আসা যাক!

ক্রেডিট কার্ড কি?

ক্রেডিট কার্ড এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে লোন নেয়া হয়। মানে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আপনি ক্রেডিট কার্ড প্রোভাইডারদের থেকে লোন নিতে পারবেন

উদাহরণস্বরুপ: আপনি একটি ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করেছেনে তখন আপনার ইনকামের উপর ভিত্তি করে আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান লোন দিবে।

যা আপনি এই কার্ডের মাধ্যমে খরচ করতে পারবেন। এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা ফেরত সুদ আসল সহ তা ফেরত দিতে হবে। লোন এবং  সুদ সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা আছে।

বাংলাদেশে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র সোনালি ও জনতা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড প্রোভাইড করে থাকে আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে 25 টি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে থাকে। 

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যখন কোনো প্রোভাইডার আপনাকে লোন দিবে তখন সাথে একটা  নির্দিষ্ট সময় জুড়ে দেয়। মানে লোন পরিষোধ করার জন্য।

এই সময়টা সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ দিনের হয়ে থাকে। তবে কেউ এই সময়ের মধ্যে পরিষোধে ব্যর্থ হলে তখন তার লোনের উপর ভিত্তি করে আবার সুদ ধার‌্য করা হয়। যতক্ষন না তারা সেই লোন শোধ না করে।

তবে আমাদের দেশে এখনো সেরকম মানুষ ক্রেডিট কার্ডে অব্যস্ত নই। তবে যারা ব্যবহার করে তারা জানে যে ক্রেডিট কার্ড কি?

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডে অনেক হিডেন ফি থাকে যেগুলোর কারণে অনেকে অনেক পরিমান সুধ প্রদান করতে হয়।

তাই আশা করি ক্রেডিট কার্ড কি এটা জানতে পেরেছেন। এবারে জেনে নিন ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও অসুবিধা। এবং ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো।

আরও: পেপাল একাউন্ট খোলার নিয়ম

ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড কি

আমরা প্রায় ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডের নাম শুনে থাকি। কিন্তু কোনটার বৈশিষ্ঠ কি সেটা আমরা জানি না।

ডেবিট কার্ড বলতে বোঝায় আপনার ব্যাংক একাউন্টে জমা টাকা আছে এবং সেটি আপনি যে কার্ডের মাধ্যমে খরচ কিংবা Withdraw করবেন সেটি ডেবিট কার্ড।

অর্থাৎ আপনার একাউন্টে আগে থেকেই জমা আছে। আর ক্রেডিট কার্ড ডেবিটের বিপরীত। আপনার একাউন্টে কোনো টাকা নাই তবুও আপনি খরচ করতে পারছেন সেটি ক্রেডিট কার্ড।

ক্রেডিট কার্ডের বেশ কিছু সুবিধা অসুবিধা আছে নিছে আলোচনা করা হলো।

ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য

উপরে আমি সুন্দর একটি পয়েন্ট দিয়েছি যে ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য কি কি?

ডেবিট কার্ড

  • ডেবিট কার্ড হচ্ছে আপনার ব্যালেন্স। মানে আপনার ব্যাংক একাউন্টে ব্যালেন্স আছে সেই ব্যালেন্স আপনি খরচ করার জন্য যে কার্ড ব্যবহার করবেন সেখানে ডেবিট কার্ড।
  • ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে হলে আগে একাউন্টে টাকা জমা রাখতে হয়।
  • ডেবিট কার্ডে ব্যবহারে অনেক ঝামেলা কম আছে।

ক্রেডিট কার্ড

  • ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ। আপনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যে কার্ডের মাধ্যমে খরচ করে থাকেন ঐ কার্ডকে ক্রেডিট কার্ড বলা হয়।
  • ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জন্য প্রথমে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়।
  • কিংবা ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার পর যত টাকা খরচ করবেন তা আপনার একাউন্টে ঋণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।
  • ক্রেডিট কার্ড যে কেউ ব্যবহার করতে পারে না।

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা

ক্রেডিট কার্ডে আসলেও সুবিধা আছে তবে অনেকে না জানার কারণে বা শর্ত না পড়ে কার্ড চয়েজ করলে সুদের সমস্যা হয়।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আপনার প্রথম সুযোগ হলো টাকা না থাকলেও কেনাকাটা করতে পারবেন। মানে আপনি মাসের ১ তারিখে বেতন পান।

কিন্তু কোনো কারনে আপনার মাসের ১ তারিখের আগেই টাকা প্রয়োজন বা কেনাকাটার প্রয়োজন তখন আপনি ক্রেডিট কার্ডের সুবিধাটা পাচ্ছেন। মাস শেষে আপনি আবার ক্রেডিট কার্ডের বিলটা দিয়ে দিলেই হবে।

পরের সুবিধাটা হলো EMI = Equal Monthly Facility । equal monthly facility বলতে অনেক টা উপরের টার মতোই।

তবে এখানে সুবিধা হলো আপনি স্থায়ী বা চলতি কোনো কিছু কিনতে চান যেমন টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি। কিন্তু আপনার কাছে এককালিন টাকা নেই তখন আপনি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কিনতে পারবেন।

এবং পরবর্তীতে মাসিক কিস্তিতে কার্ড প্রোভাইডারদের পরিশোধ করতে পারবেন। এটা কিছুটা এনজিও র লোনের মতোই। তবে অনেকের মতে এনজিওর লোনের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডের লোন বেশ সুবিধা জনক।

তারপরে আছে রিওয়ার্ড পয়েন্ট। বেশ কিছু ব্যাংক বা প্রোভাইডার এসব সুবিধা দিয়ে থাকে। আপনি প্রতি লেনদেনে রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাবেন যেটা কিছুটা বিকাশের মতো।

এখানে প্রতিটা ক্ষেত্রে পাবেন না। এছাড়াও গিফ্ট কার্ড, ট্রাভেল প্যাকেজ ইত্যাদি। আবার বিদেশে ব্যবহার করতে চাইলে আপনার ডুয়ার কারেন্সি কার্ লাগবে যেটা ইস্যু করতে পারপোর্ট লাগে।

আপনার জন্য: বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

এছাড়াও রয়েছে ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্ট, বাই  ওয়ান গেট ওয়ান ইত্যাদি। নির্দিষ্ট কোনো প্রোডাক্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কিনলে ডিসকাউন্ট থাকে।

যেমন একটা ফ্রিজ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কিনলে ##%  ডিসকাউন্টবা ক্যাশব্যাক। বাই ওয়ান গেট ওয়ানে ক্ষেত্রে একটা কিনলে একটা ফ্রি। আরও রয়েছে বাই  নাউ পে লেটার। মানে আপনি এখন কিনতে পারবেন এবং পরে পরিশোধ করতে পারবেন।

ক্রেডিট কার্ডের অসুবিধা

ক্রেডিট কার্ডের বড় অসুবিধা হচ্ছে এর ফি। ক্রেডিট কার্ডের বেশ কিছু tram’s and conditions থাকে যেগুলো আমরা তেমন একটা পড়ি না।

এমনকি কার্ড প্রোভাইডাররা বরতে চায় না। এই Miss Understanding এর কারণে অনেকে সুদের কবলে পড়ে যায়। ক্রেডিট কার্ডের কিছু ফি যেমন:

  • Processing fee
  • annual fee
  • SMS fee
  • Balance transfer fee
  • Paper Statement fee
  • Cash Withdrawal fee

আরও অনেক ফি রয়েছে। আপনাদের কারও জানা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। এই ফি গুলো সচরাচর চোখে পড়ে।

এখানে আপনাকে অনেক ফি সম্পর্কে কার্ড প্রোভাইডারা বলবে না। তবে আপনি ভালো করে পড়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিবেন যে আপনার জন্য কোনটা উপযুক্ত।

ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো

আপনি যদি ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিতে চান তাহলে আপনাকে কি কি করতে হবে তাই একটু ফলো করুন।

ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো? এমন প্রশ্ন প্রায় দেখা যায়। কারণ বাংলাদেশের ধীরে ধীরে ক্রেডিট কার্ডে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাই এখন সচরাচর অনেককেই ক্রেডিট কার্ড নিতে চায়। কিন্তু কিভাবে ক্রেডিট কার্ড নেবে সে ব্যাপারে খুব কম লোকই জানে।

ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

কারা ক্রেডিট কার্ড নিতে পারবেন – এট ব্যাপারটি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা বাংলাদেশ এর হিসেবে অনেকটাই সাধারণ।

চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী বা অন্য পেশাজীবী, যাদের আয় ও বৈধ কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) আছে, শুধুমাত্র তারাই ক্রেডিট কার্ড এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যোগ্যতা হলোঃ

জাতীয় পরিচয় পত্র

টিআইএন সার্টিফিকেট

চাকরিজীবির ক্ষেত্রে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার বা স্যালারি সার্টিফিকেট এবং ৩ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট

ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স, Memorandum of Association ৩ মাসের ব্যাংক ট্রানজেকশন স্টেটমেন্ট…………… কালেক্টেড (banglatech24.com)

কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো

কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো এটা জানার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী টিপস হচ্ছে প্রতিটা ব্যাংকে গিয়ে তাদের ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানা।

এক্ষেত্রে আপনি ব্যাংকে গেলে কোন সিনিয়র ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করতে পারেন। যে ব্যাংকের সবচেয়ে কম ঋণের সুদ ধার্য করা হবে সে ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করবেন।

তবে এক্ষেত্রে বলতে পারে আপনি ইসলামী ব্যাংক গুলোতে দেখতে পারেন। যেমন ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ইত্যাদি।

শেষ কথা:

এখানে ক্রেডিট কার্ড কি এটা আশা করি জানতে পেরেছেন। ক্রেডিট কার্ড এর সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই আমরা অনেকে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করি। যার ফলে অনেককে চড়া সুদের কবলে পড়তে হয়।

আবার যারা সময়মতো সুধ প্রদান করে তাদের ক্রেডিট স্কোরও ভালো হয়। যার কারনে কেউ ব্যবসায় ক্ষেত্রে ঋন নিলে কিছু সুবিধা পায়।

আর সময় মতো ঋনের সুদ প্রদান না করলে ক্রেডিট স্কোর খারাপ হয়। যা পরবর্তীতে সমস্যা সৃষ্টি করে।

ক্রেডিট কার্ড কি এই পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আর আপনার কোনো পরামর্শ থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিন। ধন্যবাদ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *