সফটওয়্যার মার্কেটে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ফ্রিতে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করুন। এবং টাকা উপার্জন করুন।

বর্তমানে প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রতিযোগীতার শেষ নেই। দিনের শুরুতেই দেখা যায় প্রতিযোগীতা। এই প্রতিযোগীতার বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আপনাকেও কিছু করতে হবে।

মোবাইল অ্যাপ তৈরি করুন মাত্র ১ মিনিটেই। বিস্তারিত আলোচনা

নতুন কিছু তৈরি কিংবা সৃজনশীলতার মাধ্যমে সবার থেকে আলাদা কিছু করেই টপ লেভেলে যেতে পারবেন। তবে বর্তমানে অনেক সৃজনশীলতা দেখা যায়। তাই নতুন কিছু উদ্ভাবন প্রায় কষ্টসাধ্য।

তাই সবচেয়ে ভালো হয় পুরাতন বস্তুকে নতুন করে আবিষ্কার করা। এটার সহজ মানে হলো পুরোনো কোনো বস্তুকে মডিফাই করে নতুন কিছু সৃষ্টি করা।

সেজন্য আজকে আমরা কথা বলবো বর্তমান প্রযুক্তির মধ্যে শীর্ষে থাকা একটা ক্যাটাগরির সম্পর্কে

এতক্ষনে হয়তো পুরো ব্যাপারটা বুঝে গেছেন। হ্যাঁ আজকে আমরা কথা বলবো মোবাইল অ্যাপ বা সফটওয়্যার সম্পর্কে। বেশি কিছু চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

শুধুমাত্র আপনার হাতে থাকা মোবাইলটার কথা চিন্তা করুন। যখনি মোবাইল টা অন করেন, তখনি কোনো না কোনো অ্যাপ ওপেন করে থাকেন। তাহলে আপনার পক্ষ থেকে চিন্তাটা একটু গভীর করুন।

আমি হয়তো আগেই বলেছি যে, পুরোনো কে নতুন করে উপস্থাপন করা। দেখুন অনেক হাই লেভেলের সফটওয়্যার তৈরি হয়ে গেছে।

কিন্তু শুধুমাত্র এই কথাটা ভেবে হতাশ হবেন না। আমরা একটা সহজ উদাহরণ দিই। আমরা ইউটিউব সম্পর্কে সবাই জানি। ইউটিউব ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। তাহলে একবার ভাবুন টিকটকের কোনো প্রয়োজন ছিলো কি?

শুধুমাত্র সৃজনশীলতার কারনেই হয়েছে। ইউটিউব ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হলেও টিকটক হলো শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম।

টিকটক প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে। হয়তোবা সফটওয়্যার ডেভেলপারদের সৃজনশীলতার কারনেই ইউটিউব থাকতেও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম আজ সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

এবার আসুন সোজা কথায়। আপনি যদি সৃজনশীলতার গুরুত্ব বুঝতে পারেন, তবে আপনাকে শুধু এতোটুকুই বলবো যে, আপনার সৃজনশীলতা দেখানোর জন্য প্রস্তুতি শুরু করুন। আর আজকে এরকম সৃজনশীলতার উদাহরণ মোবাইল অ্যাপ এর বিস্তারিত থাকছেই।

মোবাইল অ্যাপ কি?

উপরে হয়তো একটা উদাহরণ পেয়ে গেছেন। তবুও একটু বিস্তারিত বলার চেষ্টা করি। মোবাইল অ্যাপ বলতে আমরা প্রত্যেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকি।

যখনই আমরা মোবাইলটা ওপেন করি তখন, কেউ ফেসবুক ব্যবহার করি, কেউ বা েইউটিউব, এই যে আমার ব্লগটা পড়ছেন তার জন্য তো গুগলের প্রয়োজন হয়।

এই যে, ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল এগুলো প্রত্যেকটা হলো মোবাইল অ্যাপ। মোবাইল অ্যাপকে আপনি এন্ড্রয়েড অ্যাপ কিংবা আইওএস ও বলতে পারেন।

আর সবগুলোর গুচ্ছ সমষ্টিই হলো সফটওয়্যার। তাই আশা করি মোবাইল অ্যাপ কি তা বুঝতে পেরেছেন। মোবাইল অ্যাপের প্রকারভেদ বলতে গেলে দুই প্রকারকে বুঝায়।

মোবাইল অ্যাপের প্রকারভেদ

দুই প্রকার মোবাইল অ্যাপ হলো একটা এন্ড্রয়েড। অন্যটা আইওএস। এন্ড্রয়েড হলো একটা অপারেটিং সিস্টেম। আইওএস ও একটা অপারেটিং সিস্টেম।

দুইটাই স্মার্ট ফোন। তবে সফটওয়্যারিং কিছু ব্যবধানই এন্ড্রয়েড ও আইওএস এর তফাৎ। এই দুই অপারেটিং সিস্টেমের অ্যাপ স্টোরও আলাদা।

যার কারন হলো এদের সফটওয়্যারিং কোডিং ও আলাদা। এখন এর সম্পর্কে আর না যাই। মোবাইল অ্যাপের কথা বলতে গেলে চার ক্যাটাগরির অ্যাপ রয়েছে।

  • নেটিভ অ্যাপ
  • হাইব্রিড অ্যাপ
  • ওয়েব অ্যাপ
  • ক্রস প্ল্যাটফর্ম

নেটিভ অ্যাপের কথা বলতে গেলে আবারও অপারেটিং সিস্টেমের কথা আসবে। নেটিভ অ্যাপ মূলত আইওএস অপারেটিং যাকে আমরা আইফোন নামে জানি। এই আইফোনের জন্যই নেটিভ অ্যাপ।

[হাইব্রিড অ্যাপ এর সম্পর্কে বেশি কিছু না জানায় আপনাদের সঠিক তথ্য প্রদান করে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃক্ষিত]

ওয়েব অ্যাপ বলতে আপনি যে আমার এই সাইটে ভিজিটর অবস্থায় আছেন, এই সাইটটি তৈরি হয়েছে এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট এগুলোর সমন্বয়ে। এই অ্যাপগুলোকে বলা হয় ওওয়েব অ্যাপ।

ক্রস প্ল্যাটফর্ম মোবাইল অ্যাপের ক্যাটাগরিতে পড়ে কিনা সেটা আমি শিওর না। তবে ক্রস প্ল্যাটফর্ম বলতে বুঝায় এমন অ্যাপ গুলোকে, যেগুলোর দুইটা ভার্ষন রয়েছে।

যেমন আপনি ফটোশপ ব্যবহার করছেন, আপনার মোবাইলে কিংবা কম্পিউটারে। কিন্তু এটা অল্টারনেটিভ একটা ওয়েব ভার্ষন রয়েছে।

কিভাবে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করবেন।

মোবাইল অ্যাপ তৈরি করার জন্য প্রথমে আপনাকে কোডিং জানতে হবে। যেটাকে আমরা সফটওয়্যার ডেপেলপিং বলে থাকি। তবে চিন্তা করবেন না। ফ্রিতেও সফটওয়্যার তৈরি করা যায়।

যাইহোক সেটা একটু পরেই আলোচনা করছি। আপনি যদি কোডিং না জানেন তবে, সফটওয়্যারিং ডেভেলপার এর উপর কোর্স করতে হবে।

আর ফ্রি সফটওয়্যার তৈরির জন্য অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে। যেখানে আপনি ফ্রিতে অল্প সময়ের মধ্যে একট মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন। যেখানে আপনার  কোডিং এর দক্ষতার কোনো প্রয়োজনই নেই।

ফ্রিতে নাকি কোডিং করে? কিভাবে একটা মোবাইল অ্যাপ তৈরি করবেন।

আপনার অবশ্যই খুশি হবার কথা যে, ফ্রিতেই একটা মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন। তবে আমি বলে রাখি যে, ফ্রি তো ফ্রিই। এখানে আপনার মন মতো হবে না।

কিংবা ফ্রিটা এইরকম যে, তারা অনেকগুলো টেম্পলেট দিয়ে দিবে। সেগুলো আপনি কাস্টমাইজ করে নিবেন। ব্যাস এতটুকুই।

আর যদি আপনি কোডিং করে একটা সফটওয়্যার তৈরি করেন তবে, সেটা হবে ইউনিক। এবং আপনার সৃজনশীলতার পরিচয় হবে। এবং আরও কত সুবিধা।

তাহলে কি ফ্রিতে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করলে সেখানে কোডিং থাকবে না? অবশ্যই কোডিং থাকবে। তবে সেই কোড সবাই রিড করতে পারবে না।

মানে সেই কোডিং শুধু মাত্র যেই সাইট থেকে তৈরি করবেন  সেই সাইটেই কাস্টমাইজ করতে পারবেন। আর জানি না সেই সফটওয়্যার দিয়ে ইনকাম করতে পারবনে কিনা।

আমি আপনাকে ভয় দেখাচ্ছিনা। আমি শুধু সুবিধা অসুবিধাগুলো বলছি। আপনি এটাকে একাট গাইড স্বরূপ হিসেবে দেখতে পারেন। কারন আমিও সফটওয়্যার ডেভেলপার। যাইহোক! এইবার আসুন মূল কথায়।

মোবাইল অ্যাপ তৈরি করুন কয়েক মিনিটেই

তাই আমরা ফ্রিতে কিভাবে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে হয় সেটা জানবো। আপনি যদি ফ্রিতে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে চান তবে রিমান্ডেশন হিসেবে থাকছে, আপনার দরকার ইন্টারনেট। বা যেটাকে আমরা এমবি বলে থাকি।

তারপরে বলি আপনি যদি প্রফেশনাল বা ভালো মানের একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে চান তবে, আপনার প্রয়োজন ভালো মানের একটা মোবাইল। আর যদি কম্পিউটার থাকে তবে বলবো, আপনি কোডিং শিখেন। সবচেয়ে ভালো হবে।

প্রথমেই চলে যাবেন thunkable এ। আরও সাইট আছে। একটা একটা করে আলোচনা করছি। সাইটে যাবার পর একাউন্ট খুলতে হবে।

একাউন্ট খোলার জন্য সাইন আপ এ ক্লিক করবেন। আমি সাজেশন করবো জিমেইল দিয়ে লগইন করে নিবেন। কারন হচ্ছে মাত্র এক ক্লিকেই একাউন্ট খোলা যায়।

এরপরে একাউন্ট খোলা হয়ে গেলে প্রজেক্ট পেজ আসবে। সেখানে রেডিমেট অনেকগুলো প্রজেক্ট দেখতে পাবেন। আপনার পছন্দের একটা প্রজেক্ট ওপেন করে নিবেন।

এবং কাস্টমাইজ করতে থাকবেন। এখানে আপনাদের জন্য একটা দুঃখজনক ব্যপার হলো আপনি যখন এটা কাস্টমাইজ করবেন তখন প্রজেক্টটাকে ডাউনলোড করতে পারবেন না। ডাউনলোড করতে হলে তাদের প্রিমিয়াম ভার্ষন কিনতে হবে।

এটাকে আপনি দুঃখজনকভাবেই নিতে পারেন। তবে এডমোব এড বসাতে পারবেন। এডমোব হলো অনেকটা এডসেন্স একাউন্ট এর মতোই।

এইতো গেলো একটা সাইটের আলোচনা। এখানে তো দেখতেই পাচ্ছেন যে প্রজেক্টটাকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে না।

গুড নিউজ! এমন আরেকটি সাইট আছে যেখানে আপনি চাইলেই একটা মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন। এখঅনে আপনি প্রজেক্টও ডাউনলোড করতে পারবেন।

আবার গুগল প্লে স্টোরে আপলোডও করতে পারবেন। হ্যাঁ! এই সাইটটির নাম হলো appsgeyser। এখানে আপনি দুই ক্যাটাগরির মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন। ১ হলো ব্যক্তিগত আর ২ হলো ব্যবসায়িক।

এখানেও একাউন্ট খুলে নিবেন। তারপরে অনেকগুলো প্রজেক্ট  পেয়ে যাবেন। এটা ড্র‌্যাগ এন্ড ড্রপ এর মতোই। তারাই সব নির্দেশিকা দেখিয়ে দিবে। তাই এখানে আপনার মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে কোনো অসুবিধা হবার কথা নয়।

মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে টাকা আয় করতে পারবো?

সবারই ইচ্ছা থাকে যে, একটা মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে টাকা আয় করার। তাই আপনি কি পারবেন টাকা আয় করতে? আমার মনে হয় না।

কারন যে সাইটগুলোর কথা বলেছি সেগুলোতে ফ্রিতে সফটওয়্যার তৈরি করতে দেয়। তার মানে কোনো না কোনা ত্রুটি তো থাকবেই।

যেমন, হতে পারে আপনার মোবাইল অ্যাপটি তৈরি করার পর গুগল কনসোলে যখন আপলোড করবেন তখন, গুগল সেই প্রজেক্টটাকে রিজেক্ট করে দিবে। আর এতদূর কাজ করেও যদি মোবাইল অ্যাপটি রিজেক্ট হয়ে যায় তখন! আর কি করার।

তাই আপনি যদি সত্যিকারেরই মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে চান বা সেখঅন থেকে টাকা আয় করতে চান তবে, সফটওয়্যার ডেপেলপিং কোর্স করুন। তবেই ভালো মানের মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন।

শেষ কথা:

আমি শুধু আপনাদের গাইড করার চেষ্টা করেছি। কোনটা আপনার জন্য ভালো হবে, ফ্রিতে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা নাকি কোডিং করে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা।

দেখুন আপনার জন্য কোনটা ভঅলো হবে সেটা আপনাকেই বুঝে নিতে হবে।

যদি আমাকে বলা হয় তবে আমি বলবো কেউ যদি প্রফেশনালভাবে সফটওয়্যার ডেভেলপার হতে চায় তাহলে তাকে কোডিং শিখতেই হবে। ধন্যবাদ